ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ , ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঈদের কেনাকাটায় বরিশালের মার্কেট ও শপিংমলগুলো জমজমাট

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৩-১৭ ০২:৩০:১২
ঈদের কেনাকাটায় বরিশালের মার্কেট ও শপিংমলগুলো জমজমাট ঈদের কেনাকাটায় বরিশালের মার্কেট ও শপিংমলগুলো জমজমাট
 
 
 
রাহাদ সুমন,বরিশাল;
 
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে জমে উঠেছে বরিশালের মার্কেট ও শপিংমলগুলো। রমজানের শেষ দিকে এসে কেনাকাটার ব্যস্ততা বেড়েছে কয়েকগুণ। নতুন পোশাক ও আকর্ষণীয় কালেকশন নিয়ে প্রস্তুত ব্যবসায়ীরা, আর পরিবারের জন্য পছন্দের জিনিস কিনতে মার্কেটমুখী হচ্ছেন ক্রেতারা। তবে এবারের ঈদবাজারে পোশাকের দাম তুলনামূলক বেশি বলে অভিযোগ করছেন অনেকেই।


বরিশাল নগরীর ঐতিহ্যবাহী চকবাজার মার্কেটে এখন উপচে পড়া ভিড়। এছাড়া সিটি,ভেনাস ও মহসিন মার্কেটেও ভিড় লেগে থাকে। আড়ং, ইজি, ভার্গো, ফাতেমা সেন্টার, প্লাস পয়েন্ট,এলিট, ভিক্টর টপটেনসহ নামিদামী বিভিন্ন শপিংমলেও ক্রেতাদের তীল ধরণের ঠাঁই নেই। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে বিকিকিনি।
 
 
বিশেষ করে নারী ও শিশুদের পোশাকের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের চাপ বেশি। শাড়ি, থ্রিপিস, জুতা ও প্রসাধনীসহ নানা পণ্যের সমাহারে সাজানো হয়েছে দোকানগুলো। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে মানুষের উপস্থিতি। 


ক্রেতারা জানিয়েছেন, বাজারে পোশাকের বৈচিত্র্য থাকলেও দাম গত বছরের তুলনায় অনেকটাই বেশি। পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা করতে এসে অনেকেই বাজেটের চাপ অনুভব করছেন। মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মতে, পোশাকের দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলে কেনাকাটা আরও সহজ হতো।


বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এ বছর নারী পোশাকের মধ্যে ‘সারারা’, ‘গারারা’, ‘ফারসি’ ও পাকিস্তানি স্টাইলের পোশাকের চাহিদা বেশি। এসব পোশাকের দাম প্রায় তিন হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে জামদানি ও সিল্ক জামদানির মতো শাড়িও ক্রেতাদের আকর্ষণ করছে। এসব শাড়ির দাম দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে থাকায় বিক্রিও তুলনামূলক বেশি।
 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের বাজারে বিক্রি সন্তোষজনক। রমজানের শুরু থেকেই বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি থাকলেও শেষ সময়ে এসে বেচাকেনা আরও বেড়েছে। অনেক দোকানেই বিভিন্ন ধরনের নতুন ডিজাইনের পোশাক আনা হয়েছে, যাতে ক্রেতারা পছন্দমতো কিনতে পারেন।


এদিকে ঈদ উপলক্ষে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন শপিংমল ও শোরুমেও ভিড় বেড়েছে। পুরুষদের জন্য পাঞ্জাবি, শার্ট, প্যান্ট এবং শিশুদের পোশাক কিনতে অনেকেই যাচ্ছেন ব্র্যান্ডের দোকানগুলোতে। পাঞ্জাবির দাম দুই হাজার থেকে ছয় হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। শুধু মার্কেট কিংবা বিপণীবিতানগুলোই নয় ফুটপাতের দোকানগুলোতেও উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। এসব দোকানে 
নিন্ম আয়ের মানুষ ভিড় করছেন।


নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নগরীর মার্কেটগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ। পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সদস্য ও ট্রাফিক পুলিশও দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে ক্রেতারা নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করতে পারেন।


পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদের আগে মার্কেটগুলোতে ছিনতাই বা বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বরিশালের বাজারগুলোতে ভিড় বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, শেষ সময়ে বেচাকেনা আরও বাড়বে এবং এবারের ঈদ বাজার গত বছরের তুলনায় ভালো যাবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ